নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ২৩ মে: লোধা আইন মতে, সত্তরোর্ধ্ব কোনও ব্যক্তি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা তার অধীনস্ত কোন সংস্থায় প্রশাসনিক পদে থাকতে পারবেন না। ৭০ হয়ে যাওয়া মানেই মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও চেয়ার খালি করে দিতে হবে। সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আসন আঁকড়ে বসে রয়েছেন সিএবি যুগ্ম সচিব মদনমোহন ঘোষ।
সুপ্রিম নির্দেশে লোধা আইন লাঘু হওয়ার পর শুধু বিসিসিআই-তেই নয়, দেশের বিভিন্ন ক্রিকেট সংস্থায় দায়িত্বে থাকা প্রশাসকদের চলে যেতে হয়েছে। প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি রজার বিনি’ও ৭০-এর গণ্ডিতে ঢুকে পড়ার পর এক দিনের জন্যও চেয়ার আঁকড়ে রাখেননি।
লোধা নিয়মের কারণে খোদ সিএবি থেকে সরে যেতে হয়েছে প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে-কে। বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করার ফলে নয় বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। প্রাক্তন যুগ্মসচিব সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়কেও সরে যেতে হয়েছে এই নিয়মের কারণে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়’ও বাধ্যতামূলক কুলিং অফ পিরিয়ড কাটিয়েই দ্বিতীয় বার সিএবি সভাপতি হয়েছেন। প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া’কেও যেতে হয়েছে বাধ্যতামূলক কুলিং অফে। এই নিয়মের আওতায় স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়কেও সরে যেতে হয়েছে ৯ বছর প্রশাসনিক পদে কাটিয়ে ফেলার পর। সিএবি-র এ সময়ের যুগ্ম সচিব এবং প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে লোধা নিয়মের কারণে ‘ইনএলিজিবেল’ হয়ে যাওয়ার পরই তাঁর কেবিনের বাইরে লাগানো নেম প্লেট খুলে নেওয়া হয়।
তা হলে, প্রশ্ন এখন একটাই মদনমোহন ঘোষ কি আইনের ঊর্ধ্বে? যেখানে ভারতের ক্রিকেট প্রশাসন লোধা আইন মেনে চলে সেখানে ব্যতিক্রমী মদনের নিজের পদে বহাল থাকা তোলপাড় ফেলে দিয়েছে ক্রিকেট মহলে।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অভিষেক ডালমিয়া, স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, বিশ্বরূপ দে -র মতো ক্রিকেট এবং ক্রিকেট প্রশাসনের তাবড় তাবড় চরিত্র’দের কাউকে বাধ্যতামূলক কুলিং অফে যেতে হয়েছে, কেউ নয় বছর টার্ম শেষ হওয়ার পর ‘ইনএলিজিবেল’ হয়ে গিয়েছেন সেখানে মদনমোহন ঘোষ কি আইনের ঊর্ধ্বে? যদি এমনটাই হতো তা হলে, প্রশ্নটা কিন্তু ঘোরা ফেরা করছে ময়দানের আনাচে কানাচে। বটতলার গুঞ্জন, মদনমোহন কি সেই ব্যক্তি যিনি মেনে চলেন, ‘দেহত্যাগের আগে পদত্যাগ নয়।’ যদিও মদনের শুভানুধ্যায়ীদের অনেকে বলাবলি করছেন, ক্রীড়া আইন প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে, কিছু দিনের মধ্যেই তা প্রয়োগ হবে, সেক্ষেত্রে মদনের যাওয়ার প্রশ্ন কোথায়? এই যুক্তি মাথা-পা কোনওটাই নেই। প্রথমত, মদনমোহন পদে বসেছেন লোধা আইন মেনে, সিএবির নতুন কমিটি গত বছর এই আইনের আওতায় তৈরি। দ্বিতীয়ত, ক্রীড়া আইন প্রয়োগ হবে জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনে। বিসিসিআই বা তার অধীনস্ত সংস্থা এই ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত নয়। জানিয়ে রাখা দরকার, কয়েক দিন আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট বা আরটিআই-এর আওতায় আসে না বোর্ড।
লোধা নিয়ম অনুযায়ী, ৭০ বছর হয়ে গেলে এক দিনও পদে বসা যায় না। সেখানে কি ভাবে সিএবির অফিস বেয়ারারের ভূমিকায় ৭০ পেরিয়েও অটল মদনমোহন?



